কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬ এ ০৩:২২ PM

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

কন্টেন্ট: পাতা

লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার উন্নয়ন সম্ভাবনা

লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার ভৌগোলিক অবস্থান, নদ-নদী নির্ভরতা, মৌসুমি পানি প্রাপ্যতা, চরাঞ্চল ও জলাবদ্ধতা বিবেচনায় বিএডিসি সেচ উইং এর অভিজ্ঞতার আলোকে নিম্নোক্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে:

ক্র.নং

কার্যক্রম

যৌক্তিকতা/প্রয়োজনীয়তা

খাল খনন/পুনঃখনন ও সমন্বিত ব্যবহার

খাল/নালা খনন ও পুনঃখনন করে পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি;

  • একদিকে পানি সংরক্ষণ ও সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে;

  • অন্যদিকে গ্রামীণ যোগাযোগ উন্নত হবে এবং কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে (dual benefit)

খননকৃত মাটি একপাশে ফেলে উঁচু করে মেঠো রাস্তা হিসেবে ব্যবহার;

ডাবল লিফটিং ও নদীভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা

খনন/পুনঃখননকৃত খালে নদী হতে ডাবল লিফটিং পদ্ধতিতে পানি সরবরাহ;

  • শুষ্ক মৌসুমেও নদীর পানি ব্যবহার করে সেচ নিশ্চিত করা যাবে;

  • ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা কমবে।

নদীতে ভাসমান সেচযন্ত্র (Floating Pump) স্থাপন;

সোলারাইজেশন ও নবায়নযোগ্য শক্তি

ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রকে সোলার সেচযন্ত্রে রূপান্তর;

  • সেচ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে;

  • পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শক্তি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে;

  • কৃষক অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাবে।

নেট মিটারিং (Net Metering) ব্যবস্থার আওতায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ;

ফসল পরিবহন ও পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো

গোপাট বা ফসল পরিবহনের নিমিত্ত ক্ষুদ্র গ্রামীণ চলাচল পথ তৈরি

  • গোপাটের (ফসল পরিবহনের নিমিত্ত ক্ষুদ্র গ্রামীণ চলাচল পথ) মাধ্যমে ফসলের মাঠের একদম ভেতরের জমি থেকে ফসল আনা-নেয়ার জন্য ভ্যান/সাইকেল চলাচল সম্ভব হবে, ফলে কৃষকদের আর মাথায় করে ফসল বহন করতে হবে না;

  • প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সংরক্ষণ ও নিষ্কাশন নিয়ন্ত্রণ করা যাবে;

  • জলাবদ্ধতা ও খরার প্রভাব কমবে;

  • সেচ ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

স্লুইসগেট ও পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নির্মাণ

খাল পারাপার সুবিধা উন্নয়ন

খালের উপর ফুট ব্রিজ ও ক্যাটল ক্রসিং নির্মাণ;

  • কৃষক, গবাদিপশু ও কৃষিযন্ত্রের সহজ চলাচল নিশ্চিত হবে;

  • মাঠ পর্যায়ে কৃষিকাজে সময় ও শ্রম কমবে।

পানি সাশ্রয় ও দক্ষ সেচ প্রযুক্তি

১০

ব্যক্তিমালিকানাধীন সেচযন্ত্রে বারিড পাইপ স্থাপন;

  • পানির অপচয় কমবে;

  • সেচ দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে;

  • একই পানিতে বেশি জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে।

১১

AWD, ফিতা পাইপ, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি সম্প্রসারণ;

চরাঞ্চলে সেচ সম্প্রসারণ

১২

চর এলাকায় পোর্টেবল সেচ বিতরণ ব্যবস্থা চালু;

  • দুর্গম ও অস্থায়ী জমিতেও সেচ সুবিধা পৌঁছানো যাবে;

  • নতুন আবাদযোগ্য জমি সেচের আওতায় আসবে।

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (Rainwater Harvesting)

১৩

রেইনওয়াটার হার্ভেস্টার স্থাপন;

  • বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করা যাবে;

  • ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমবে।

পলিশেড ও উচ্চমূল্য কৃষি উৎপাদন

১৪

পলিশেড নির্মাণ ও সম্প্রসারণ;

  • নিরাপদ, পুষ্টিসম্মত ও অফ-সিজন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে;

  • কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সমন্বিত বাস্তবায়নের প্রভাব

কার্যক্রমসমূহ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হলে সেচ এলাকা বৃদ্ধি, পানি সাশ্রয়, জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় একটি টেকসই ও আধুনিক কৃষি-সেচ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন